Story
নাজমুল হুদা ইকবাল একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের পরিচিত রাজনৈতিক কর্মী এবং তিনটি ছোট শিশুর বাবা। ঢাকায় তিনি ব্যবসা করতেন এবং পরিবার নিয়ে সাধারণভাবে জীবনযাপন করছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালের ৪ জুন তিনি একটি মবের শিকার হন। এরপর যাত্রাবাড়ি থানার ৫ আগস্টের একটি হত্যা মামলায় তাকে ১৭৪ নম্বর আসামি করা হয়। এমনকি মামলায় তাকে সায়দাবাদের স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবেও দেখানো হয়েছে, যা তার পরিবারের দাবি অনুযায়ী সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন। সেই ঘটনা থেকেই শুরু হয় তার এবং তার পরিবারের জন্য এক দীর্ঘ অন্ধকার সময়।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আছেন। এই সময়ের মধ্যে জেলে থাকা অবস্থায় একবার তিনি স্ট্রোকও করেছেন, যা তার শারীরিক অবস্থার অবনতির একটি গুরুতর ইঙ্গিত। একদিকে কারাগারের ভেতরে একজন মানুষ ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছেন, অন্যদিকে বাইরে তার পরিবার প্রতিদিন আরেক ধরনের যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এটি শুধু একজন ব্যক্তির বন্দিত্বের গল্প না, এটি একটি পরিবারের ধীরে ধীরে নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার গল্প।
নাজমুলের পিতা মৃত আবু তাহের ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। সেই পরিচয়ের মর্যাদা নিয়েই পরিবারটি এতদিন মাথা উঁচু করে বেঁচে ছিল। কিন্তু আজ সেই পরিবার গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। যখন নাজমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তার স্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন। পরে সন্তানের জন্ম হয়েছে, কিন্তু সেই শিশুটি বাবাকে পাশে পায়নি। আজ তিনি একা তিনটি ছোট ছোট সন্তানকে নিয়ে ঢাকার একটি ভাড়া বাসায় কোনোমতে বেঁচে আছেন।
সংসার চালাতে গিয়ে তাদের জমানো সব টাকা শেষ হয়ে গেছে। নিজের স্বর্ণ পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে। যা ছিল, সব গেছে সংসারের খরচ আর আইনি লড়াই চালাতে। এখন এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে, কয়েক মাস ধরে বাসা ভাড়া পরিশোধ করা যাচ্ছে না, মেয়ের স্কুলের বেতন দেওয়া যাচ্ছে না, প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। একজন মা খেয়ে না খেয়ে তিনটি শিশুকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। এটি কোনো অতিরঞ্জিত বর্ণনা না, এটি এক নির্মম বাস্তবতা।
একজন মা যখন বলেন যে তিনি খেয়ে না খেয়ে সন্তানদের নিয়ে বেঁচে আছেন, তখন সেটি শুধু একটি ব্যক্তিগত কষ্টের কথা না, সেটি আমাদের সমাজের কাছেও একটি প্রশ্ন। একটি পরিবার কি এভাবে অসহায় হয়ে যাবে? তিনটি নিরপরাধ শিশু কেন এই কষ্ট বয়ে বেড়াবে? একজন স্ত্রী, যিনি প্রতিদিন স্বামীর মুক্তির আশায় অপেক্ষা করছেন, তিনি কেন একা সব ভার কাঁধে তুলে নেবেন?
এই বাস্তবতার মধ্যেই আমি পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে একটি স্পেসিফিক ক্রাউডফান্ডিং কল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভিক্টিম এবং তার পরিবারকে শতভাগ ভেরিফাই করা হয়েছে, এবং সংশ্লিষ্ট সব লিগাল ডকুমেন্টস আমার সংগ্রহে আছে। আমি এই উদ্যোগটি ইউকের একটি রেজিস্টার্ড চ্যারিটির মাধ্যমে JustGiving প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরিচালনা করবো। এই প্রজেক্ট নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খোলা থাকবে, এবং এই সময়ের মধ্যে যে সহায়তা আসবে তার শতভাগই সরাসরি ভিক্টিমের স্ত্রীর ব্যাংক একাউন্টে দিয়ে দেওয়া হবে। এটি একটি স্বচ্ছ, নির্দিষ্ট এবং জবাবদিহিমূলক মানবিক উদ্যোগ।
এই সহায়তা তাদের জরুরি বাসা ভাড়া, শিশুদের শিক্ষা, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ এবং আইনি সহায়তার জন্য ব্যবহার করা হবে। এটি কোনো বিলাসিতার আবেদন না। এটি বেঁচে থাকার আবেদন। এটি একটি পরিবারকে ভেঙে পড়া থেকে বাঁচানোর আবেদন। এটি তিনটি শিশুর মুখে খাবার তুলে দেওয়ার আবেদন। এটি এক মায়ের চোখের পানি একটু হলেও মুছে দেওয়ার আবেদন।
আপনি হয়তো একা পুরো সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না, কিন্তু আপনার ছোট একটি সহায়তাও এই পরিবারের জন্য অনেক বড় আশ্রয় হতে পারে। আর যদি আর্থিক সহায়তা করা সম্ভব না হয়, তাহলেও অনুগ্রহ করে এই আবেদনটি শেয়ার করুন। কারণ অনেক সময় একটি শেয়ারও একটি পরিবারের জীবনে বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে।
আজ নাজমুল হুদা ইকবালের পরিবার আমাদের কাছে শুধু সাহায্য না, সহমর্মিতা চাইছে। আসুন, আমরা মানুষ হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়াই। যেন এই তিনটি ছোট শিশু অন্তত বুঝতে পারে, তাদের বাবা অনুপস্থিত থাকলেও পৃথিবীতে এখনো কিছু মানুষ আছে, যারা তাদের কষ্ট দেখেও চুপ করে থাকে না।
